রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় ক্যাবল ইন্টারনেট (ব্রডব্যান্ড) ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু অর্থ আদায় নয়, চাঁদার চুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে কথিত ‘টর্চার সেলে’ নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুধু ইন্টারনেট ব্যবসা নয়, নতুন ভবন নির্মাণ, কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান, লেগুনা ও টেম্পো স্ট্যান্ড থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি আলামিন’। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রের দাবি, তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ অন্তত ২৩টি মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা পৃথক বিষয়।

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বনশ্রীর ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি কিশোর গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তারা সেখান থেকে চলে যায়।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও পিচ্চি আলামিন দলবল নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের মালিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং পরে সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে কথিত ‘টর্চার সেলে’ নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি মুক্তি পেলেও চাঁদার দাবিতে হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পিচ্চি আলামিনসহ পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে রামপুরা থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, গত জুনে রামপুরায় সংঘটিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশ’ হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও পিচ্চি আলামিনের নাম এসেছে। ওই হত্যা মামলায় তিনি প্রধান আসামিদের একজন বলে জানা গেছে।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্নভাবে অভিযান চালানো হয়েছে এবং তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি।

এদিকে, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পিচ্চি আলামিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।